হলুদ পোড়া গল্পটি ছোট গল্প হিসাবে কতদূর সার্থক তা নিজের ভাষায় আলোচনা কর

 





Q. "হলুদ পোড়া"  গল্পটি ছোট গল্প হিসাবে কতদূর সার্থক তার নিজের ভাষায় আলোচনা কর।[HS Model Question-2024]

Written by FIROZ MALLICK


উত্তরঃ 'বর্ষাযাপন' কবিতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছোটোগল্পের স্বরূপ বৈশিষ্ট্য সুনিপুণভাবে বিশ্লেষণ করে বলেছেন-


"নাহি বর্ণনার ছটা    ঘটনার ঘনঘটা

         নাহি তত্ত্ব নাহি উপদেশ

অন্তরে অতৃপ্তি র'বে        সাঙ্গ করি' মনে হবে

             শেষ হয়েও হইল না শেষ।"


ব্যঞ্জনা, শিল্প-পরিণতি, কিশোর মনস্তত্ত্ব, নাটকীয়তা, অনুভব-সমস্ত দিক থেকে 'হলুদ পোড়া' সার্থক ছোটোগল্প হয়ে উঠেছে কিনা তা বিচার্য। সাধারণভাবে যে গদ্যকাহিনিতে একটিমাত্র দৃশ্যপট উপস্থাপিত হবে, ঘটনার সংক্ষিপ্ত ও তীব্র বিন্যাস ঘটবে, ঘটনাসূত্রের আকস্মিকতায় চরিত্রের চকিত উন্মোচন ঘটবে, থাকবে নাটকীয়তার চমক তাকেই ছোটোগল্প বলা যেতে পারে।


1.সূচনা ও সমাপ্তি: ছোটোগল্পের সূচনা হয় বিদ্যুৎচমকের মতো,সমাপ্তিও হয় হঠাৎই। 'হলুদ পোড়া' গল্পেও দুটি খুনের ঘটনার কথা বলে কাহিনি শুরু হয়েছে হঠাৎ, আর ধীরেনের শরীরে বলাইয়ের আত্মার ভর করার মাধ্যমে হঠাৎই তা শেষও হয়ে যায়।


2.ব্যঞ্জনাঃ 'হলুদ পোড়া' গল্পে দুটি খুনের কাহিনির ক্রাইম থ্রিলার পরিবেশন করা হয়নি, বরং এ গল্প সকল গ্রামবাসীর মনস্তত্ত্বকে উপস্থাপিত করেছে। অন্ধসংস্কার, কুসংস্কার বিজ্ঞানচিন্তার ঊর্ধ্বে স্থাপিত হয়ে কীভাবে সকল গ্রামাবসীকে নিয়ন্ত্রণ করছে, কীভাবে  আজও তাকে কাজে লাগাচ্ছে কুঞ্জ মাঝিরা এ গল্প তারই ব্যঞ্জনা।


3.একমুখী ঘটনা বিন্যাস : গল্পের শেষে ধীরেনের উক্তি- "আমি বলাই চক্রবর্তী! শুভ্রাকে আমি খুন করেছি।” স্বল্প পরিসরে এই যে পরিণতির আয়োজন তা আমাদের অন্তরে অতৃপ্তির ভাব জাগায়। বিজ্ঞানমনস্ক ধীরেনের অন্ধবিশ্বাসের পক্ষে নিমজ্জিত হওয়া এবং বাস্তবে খুনের ঘটনার কোনো সুরাহা না হওয়া ঘটনার একমুখী অথচ অসম্পূর্ণ বিন্যাসে কাহিনিটিকে সার্থক ছোটোগল্পের রূপ দেয়।

4.মনস্তত্ব: মনস্তত্বের বিবর্তনেও 'হলুদ পোড়া' সার্থক ছোটোগল্প। যে ধীরেন ভূতপ্রেত-তন্ত্রমন্ত্রের ধারণার বিরোধিতা করেন সেই ধীরেনকেই গল্পের শেষে যখন বলাই চক্রবর্তীর 'ভূতে ধরে' তখন তা ছোটোগল্পের আবহকে পূর্ণতা দেয়।


5.সংক্ষিপ্ততা: ছোটোগল্প আকারে সংক্ষিপ্ত হয়। আলোচ্য 'হলুদ পোড়া' গল্পটিও গঠনগত ও কাহিনিগত দিক থেকে সংক্ষিপ্ত। এর গঠনে, বয়নে কোনো জটিলতা নেই।


6.স্বল্প চরিত্র: ধীরেন, নবীন, দামিনী, শান্তি-মূলত এই চারটি প্রধান চরিত্রের পাশাপাশি বলাই চক্রবর্তী ও শুভ্রার নামে মাত্র উপস্থিতি, আর রয়েছেন কৈলাশ ডাক্তার ও কুঞ্জ মাঝি। এ ছাড়া চরিত্রের ঘনঘটা এখানে নেই।


7.Climax বা চূড়ান্ত পর্যায়: ছোটোগল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্যই হল তার Climax। যুক্তিবাদী শিক্ষিত ধীরেনের কুসংস্কারগ্রস্ত হয়ে পড়া, তার নিজেকে বলাই চক্রবর্তী বলে পরিচয় দেওয়ায় যে Climax রচিত হয়েছে তা পাঠককে স্তম্ভিত করে।


8.অতৃপ্তির বোধঃ ধীরেনের নিজেকে বলাই হিসেবে পরিচয় দেওয়ার মধ্য দিয়ে কাহিনি হঠাৎই শেষ হয়ে যায়। এতে পাঠক মনে একটা অতৃপ্তি রয়ে যায় এর পরে কী হল বা হতে পারত


সুতরাং সব দিক থেকেই এটি একটি সার্থক ছোট গল্প।












Comments

Popular posts from this blog

মধ্যযুগে বাংলার সমাজ ও সাহিত্য প্রাচীন বাংলার সমাজ ও সাহিত্য

CYCLONE BULBUL (The origin of the bulbul cyclone and its trajectory and its detrimental effects)

সমস্থিতি সম্পর্কে প্র‍্যাটের মতবাদ আলোচনা কর