বায়ুর ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ গুলি চিত্রসহ আলোচনা কর মাধ্যমিক ভূগোল এবং উচ্চ মাধ্যমিক ভূগোল HS geography 4th sem madhymik geography
Q.বায়ুর ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ গুলি চিত্রসহ বর্ণনা কর :-
Written by FIROZ MALLICK
Ans) বায়ুর ক্ষয় কার্যের ফলে সৃষ্ট প্রধান প্রধান ভূমিরূপ গুলি হল:
1. অপসারণ গর্ত।
2. গৌড়
3. ইনসেলবার্জ
4.ইয়ারদাং
5. জিউগেন
6.ড্রাইকন্টার
7.ভেন্টিফ্যাক্ট
8.মেসা ও বিউট
1) অপসারণ গর্ত: মরু অঞ্চলে বায়ু প্রবাহের ফলে বালি অপসারিত ও ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে সৃষ্ট গর্তকে অপসারণ গর্ভ বলে। অপসারণ গর্তকে ব্লো আউট (Blow out) বলে।
উৎপত্তি: মরুভূমি অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহের ফলে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে কোন স্থানের বালি অপসারণের মাধ্যমে অন্যস্থানে উড়ে গিয়ে অপসারণ গর্ত সৃষ্টি করে।
বৈশিষ্ট্য: (i) অপসারণ প্রক্রিয়া দ্বারা সৃষ্ট গর্ত।
(ii) বালি অপসারিত হয় জল বেরিয়ে আসে।
(iii) গর্তে জল জমে লবণাক্ত হ্রদ গড়ে ওঠে।
অপসারণ গর্ত গুলোকে আমেরিকাতে বাফেলো গর্ত বলে।
অপসারণ গর্ত গুলোকে মঙ্গোলিয়াতে প্যাংকিআন বলে।
উদাহরণ: মিশরের কাতার পৃথিবীর বৃহত্তম অপসারণ গর্তের উদাহরণ। আয়তন প্রায় 3200 বর্গ কিমি এবং সমুদ্রতল থেকে 134 মিটার নিচে অবস্থিত। থর মরুভূমিতে অপসারণ গর্ত গুলি ধান্দ নামে পরিচিত।
অপসারণ প্রক্রিয়া দ্বারা প্লায়া ও মরুদ্যান গড়ে ওঠে মরু অঞ্চলের ক্ষয়কার্যের প্রাথমিক প্রক্রিয়া।
2) গৌর: বায়ুর গতিপথে কঠিন ও নরম শিলা উপর-নিচে অবস্থান করলে, নিচের নরম শিলা ক্ষয়ে গিয়ে দেখতে ব্যাঙের ছাতা আকৃতি হলে তাকে গৌর বলে। গৌরকে সাহারাতে-গারা ও জার্মানিতে-ফিডসফেলছেন বলে।
উৎপত্তি: বায়ুর গতিপথে কঠিন ও নরম শিলা উপর নিচে অবস্থান করলে,নরম শিলা ক্ষয়ে গিয়ে দেখতে ব্যাঙের ছাতা আকৃতি গৌর সৃষ্টি হয়।
বৈশিষ্ট্য: (i) ব্যাঙের ছাতার মতো তাই মাশরুম বলে।
(ii) জার্মান ভাষায় একে ফিডসফেলছেন বলে।
(iii) উপরের কঠিন শিলা ক্ষয় প্রতিরোধ করে সৃষ্টি হয়।
(iv) দেখতে গম্বুজের মতো ভূমিরূপ।
উদাহরণ: সাহারা মরুভূমিতে গৌর দেখা যায়।
3) ইনসেলবার্জ: মরুভূমি অঞ্চলে বায়ুর ক্ষয়কার্যের ফলে কঠিন শিলাস্তর ক্ষয় প্রতিরোধ করে সমপ্রায়ভূমিতে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকলে তাকে ইনসেলবার্জ বলে। (NO-2, 2023) ইনসেলবার্জ কথার অর্থ-দ্বীপশৈল।
উৎপত্তি: মরু অঞ্চলে সমপ্রায় ভূমির মাঝে অবস্থিত কঠিন শিলায় গঠিত অনুচ্চ পাহাড় বিশিষ্ট ভূমিরূপ গুলি ক্ষয় প্রতিরোধ করে অবস্থান করলে ইনসেলবার্স গঠিত হয়।
বৈশিষ্ট্য: (i) এগুলি মরু অঞ্চলের অবশিষ্ট পাহাড়।
(ii) ইনসেলবার্জ কথার অর্থ- দ্বীপশৈল।
(iii) ইনসেলবার্জ ক্ষয় প্রতিরোধ করে দাঁড়িয়ে থাকে।
(iv) কঠিন শিলা দ্বারা গঠিত অনুচ্চ পাহাড়।
(v) সমপ্রায়ভূমির মাঝে মরুভূমির অবশিষ্ট পাহাড়।
উদাহরণ: কালাহারি মরুভূমিতে ইনসেলবার্জ আছে।
✯টরস-ইনসেলবার্জ গুলি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ছোট আকৃতির হলে তাকে টরস বলে।
✯ বর্ণহার্ট-ইনসেলবার্জ ক্ষয় হয়ে গম্বুজাকার বা ঢিবি আকৃতির হলে বর্ণহার্ট বলে।
✯ক্যাসেল কপিজ-ইনসেলবার্জ আরও ক্ষয় হয়ে বোল্ডার রূপে পরিণত হলে তাকে ক্যাসেল কপিজ বলে।
4) জিউগেন: বায়ুপ্রবাহের গতিপথে কঠিন ও নরম শিলা অনুভূমিক -ভাবে উপর নিচে অবস্থান করলে নরম শিলা দ্রুত ক্ষয় হয় ও কঠিন শিলা টিলার আকারে অবস্থান করে, একে জিউগেন বলে।
বৈশিষ্ট্য:
(i) কঠিন ও নরম শিলা অনুভূমিক অবস্থানে সৃষ্ট।
(ii) শীর্ষদেশ চ্যাপ্টা আকৃতি বিশিষ্ট হয়।
(iii) উচ্চতা প্রায় ৬-১৫ মিটার হয়।
(iv) এর চূড়াগুলো বিচ্ছিন্ন ও স্তম্ভাকার।
5) ইয়ারদাং: বায়ুর গতিপথে কঠিন ও নরম শিলা পাশাপাশি উলম্বভাবে অবস্থান করলে নরম শিলা ক্ষয় হয় এবং কঠিন শিলা টিলার আকারে দাঁড়িয়ে থাকে একে ইয়ারদাং বলে।
* ইয়ারদাং এর শীর্ষদেশ সূচালো।
* নিডিল-ইয়ারদাং এর শীর্ষদেশ ক্ষয় হয়ে তীক্ষ্ণ আকার হলে তাকে নিডিল বলে।
বৈশিষ্ট্য:
(i) কঠিন ও নরম শিলা পাশাপাশি উলম্ব অবস্থান।
(ii) ইয়ারদাং এর শীর্ষ দেশ সূচালো।
(iii) ইয়ারদাং এর মাঝখানে সুড়ঙ্গ বা গলি থাকে।
(iv) শীর্ষ দেশ তীক্ষ্ণ আকার নিলে 'নিডিল' বলে।
উদাহরণ: সাহারা মরুভূমিতে বিশ্বের বৃহত্তম ইয়ারদাং আছে।
পার্থক্য: জিউগেন ও ইয়ারদাং এর পার্থক্য নির্ণয় করবে।
6) ভেন্টিফ্যাক্ট: বায়ুপ্রবাহের ফলে শিলা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে একদিকে মসৃণ ও সূচালো হলে তাকে ভেন্টিফ্যাক্ট বলে। ল্যাটিন শব্দ 'Ventus'-এর অর্থ 'বাতাস' আর 'fact' -এর অর্থ 'সৃষ্ট'।
উদাহরণ: আফ্রিকার
কালাহারি মরুভূমিতে দেখা যায়।
7) ড্রাইকন্টার: বিভিন্ন দিক থেকে বায়ুপ্রবাহের ফলে শিলা বিভিন্ন দিকে ক্ষয়প্রাপ্ত হলে তাকে ড্রাইকন্টার বলে।
উদাহরণ: সাহারা মরুভূমিতে দেখা যায়
৪) মেসা ও বিউট: মরু অঞ্চলে ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট টেবিল আকৃতির ভূমিরূপকে মেসা বলে। মেসা টেবিল আকৃতির ভূমিরূপ। মেসা গুলি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে আরো ছোট হলে তাকে বিউট বলে । বিউট এর অর্থ-বিছিন্ন পাহাড়।
Comments
Post a Comment