মহীসঞ্চরণ মতবাদের প্রমাণ বা স্বপক্ষে যুক্তি গুলি লেখ:

 

Q)মহীসঞ্চরণ মতবাদের প্রমাণ বা স্বপক্ষে যুক্তি গুলি লেখ:

Written...... By FIROZ MALLICK


Answer) ওয়েগনার তার মহীসঞ্চরণ মতবাদের সাপেক্ষে যে প্রমাণগুলি তুলে ধরেছেন সেগুলি হল- 

1) জিগ-স-ফিট- আটলান্টিক মহাসাগরের দু'পাশের উপকূল ভাগকে আপাত দৃষ্টিতে দেখলে মনে হয় এরা পরস্পর জোড় আকৃতির বা খাঁজে খাঁজে মিশে যায়, একে জিগ-স-ফিট বলে। এর সাহায্যে ওয়েগনার প্রমাণ করেন যে আগে মহাদেশ গুলি একসাথে অবস্থান করতো এবং পরবর্তী সময়ে মহাদেশ গুলি পরস্পর থেকে দূরে সরে যায়। (জিগ-স-ফিট এর অর্থ ভাঙ্গা জিনিসের জোড়)। এই সত্যতা প্রমাণের জন্য ওয়েগনার বলেন, –

a) আফ্রিকার ফোলা অংশ মেক্সিকো উপসাগরের সাথে জোড়া ছিল। 

b) ব্রাজিলের রক অন্তরীপ এর সাথে গিনি উপসাগর জোড়া ছিল।


2) ভূতাত্ত্বীক সাদৃশ্য- ওয়েগনার মতে, আটলান্টিক মহাসাগরের দু'পাশের ভূমিভাগের মধ্যে অনেক ভূতাত্ত্বিক মিল দেখতে পাওয়া যায়। যেমন-

a) উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের দুপাশে ক্যালিডোনিয়ান ও হার্সিয়ান পর্বতের গঠন প্রায় একই।

b) ব্রাজিলের শান্তা ক্যাথেরিনার সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার কারু পর্বতের সাদৃশ্য রয়েছে। 

c) নিস শিলায় গঠিত ব্রাজিল মালভূমির সাথে আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলের মালভূমির সাদৃশ্য আছে।


3) জীবাশ্মের প্রমাণ- বিভিন্ন স্থানের শিলায় জীবাশ্ম পরীক্ষা করে মহীসঞ্চরণ এর স্বপক্ষে প্রমাণ পাওয়া যায়।

a) উদ্ভিদ জীবাশ্ম- ব্রাজিল, আফ্রিকা দক্ষিণ আমেরিকা, ভারত ও অস্ট্রেলিয়া সহ বিভিন্ন মহাদেশে কার্বনিফেরাস যুগের গ্লসেপটোরিস নামক ফনা জাতীয় স্থলজ উদ্ভিদ জীবাশ্মের প্রমাণ পাওয়া যায়।

b) প্রাণিজ জীবাশ্ম-দক্ষিণ আমেরিকার চিলি ও অস্ট্রেলিয়াতে ক্যাঙ্গারুর বসবাস সংক্রান্ত প্রমাণ পাওয়া যায় । 

c) মেসোসাউরাস সরীসৃপ এর জীবাশ্ম পাওয়া যায় ব্রাজিল ও আফ্রিকাতে।


4) পুরা জলবায়ুগত প্রমাণ- পরীক্ষা করে দেখা যায় যে বিভিন্ন অক্ষাংশে অবস্থানে বিশ্বের বহু স্থানে প্রাচীন একই প্রকার জলবায়ুর নিদর্শন পাওয়া যায়। 

a)উত্তর আমেরিকার অ্যাপেলেশিয়ান অঞ্চলে পার্মিয়ান কার্বনিফেরাস যুগে সঞ্চিত কয়লার স্তর দেখে জানা যাই যে কোন এক সময় এটি নিরক্ষীয় জলবায়ুর অন্তর্গত ছিল।

b) উত্তর গোলার্ধে বর্তমানে যেখানে শীতল মেরু অঞ্চল রয়েছে সেখানে প্রাচীন উষ্ণ মরু এবং বর্তমানে উষ্ণ মরু অঞ্চলে হিম শীতল জলবায়ুর চিহ্ন পাওয়া যায়।


5)মেরু ভ্রমণ:- ব্রিটিশ বিজ্ঞানী এস.কে রানর্কন এবং পি. এস ব্ল্যাকেট ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা থেকে শিলা নমুনা সংগ্রহ করে প্রমাণ করে যে ৫০ কোটি বছর আগে পৃথিবীর চুম্বকীয় মেরু ছিল মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরে এবং সে সময় থেকে তা উত্তর-পূর্ব এশিয়ার দিকে সরতে থাকে এই ঘটনাকে মেরু ভ্রমণ বা পোলার ওয়ান্ডারিং বলে। প্রকৃতপক্ষে পৃথিবীর এই মেরু স্থির। মহাদেশ গুলির সঞ্চালনের জন্য আপাতত স্থানান্তর ঘটে।

6) প্রবাল প্রাচীরের অবস্থান:- বর্তমানে শীতল অঞ্চলে প্রবল প্রাচীরের বন্টন অতীতে সেই এলাকাগুলি উষ্ণমণ্ডলীয় সমুদ্রের অবস্থানকে নির্দেশ করে।













Comments

Popular posts from this blog

মধ্যযুগে বাংলার সমাজ ও সাহিত্য প্রাচীন বাংলার সমাজ ও সাহিত্য

সমস্থিতি সম্পর্কে প্র‍্যাটের মতবাদ আলোচনা কর

CYCLONE BULBUL (The origin of the bulbul cyclone and its trajectory and its detrimental effects)